কবি সুধাংশু রঞ্জন সাহা


সুধাংশু রঞ্জন সাহা

জন্ম:-- ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫৭।বেড়ে ওঠা পূর্ব কলকাতায়।ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্কের অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক।গণিত, ম্যানেজমেন্ট,আইন ও বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা । কখনও গ্রুপ থিয়েটার (পঞ্চম বৈদিক), কখনও ব্যাঙ্কিং ট্রেড ইউনিয়ন(অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক অফিসার্স কনফেডারেশন) আর আটের দশক থেকে লিটল ম্যাগাজিনে কবিতা লিখেই তার যাবতীয় পরিচিতি ।কবিতা ছাড়াও গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ এবং বিদেশি কবিতা অনুবাদ করতে ভালোবাসেন। ভারত, বাংলাদেশ, অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, আফ্রিকা, জাপান সহ পৃথিবীর নানা দেশের অনলাইন কাগজে লিখে থাকেন । সম্পাদনা করেন একটি অনিয়মিত লিটল ম্যাগাজিন 'অন্যসাম্পান'। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : ১৬, গল্পগ্রন্থ : ২, ছড়াগ্রন্থ : ২।উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে : অপহৃত রাত্রির চর্যাকথা, নিরুত্তর তারার স্বপ্ন, পূর্বাভাস, পাগল চাকা ঘুরছে অবিরাম, একা দুপুর, শ্রেষ্ঠ প্রেমের পদ্য, সময়ের এস্রাজে বেজে যায় অবুঝ দুপুর, বেলুনের কোন জন্মদিন নেই ইত্যাদি।উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে ---১) মেদিনীপুর থেকে কবিতার কাগজ প্রদত্ত কবি নিত্যানন্দ পুরস্কার।২) রহড়া থেকে ইসক্রা পত্রিকা প্রদত্ত ইসক্রা রজত জয়ন্তী স্মারক সম্মাননা।৩) বজবজ লিটল ম্যাগাজিন মেলা প্রদত্ত কবি বেণু গঙ্গোপাধ্যায় স্মৃতি সম্মাননা ইত্যাদি।

গুচ্ছ কবিতায়                                                   কবি সুধাংশুরঞ্জন সাহা


















সত্তা

লুকতে চেয়ে, পালাতে চেয়ে ধরেছি পথ কত!
নদীর কাছে সঁপেছি মন,রাতের কাছে ক্ষত।
এসো অগ্নি, এসো বিবেক, অচেনা পথ ধরি।
পুড়তে চেয়ে বাকি জীবন, খরায় পুড়ে মরি।
ভোরের কচি রোদ পেরিয়ে ধরেছি হাত শত
হৃদয়ে আজ জেগে উঠেছে গাঁয়ের পথ যত।
লেগেছে ভালো বাবুই বাসা, নিঝুম রাতপাখি,
হলুদ পাখি, এক পলকে আমায় দিল ফাঁকি।
ফেরিঘাটের সবাক জল আলোআঁধারে খেলে,
সারা দুনিয়া থমকে থাকে তেপান্তরে গেলে।

বিস্ময়

তোমার অভিমানসিক্ত চোখ
যে জগৎ নির্মাণ করেছে,
আমি তার বিস্ময় মেখেছি।
এই বিস্ময় আমাকে বাজায় আলোয়,অন্ধকারে।
চাই, এই স্তব্ধতা বর্ণমালায় ছড়িয়ে পড়ুক।
এইটুকুই আমার বলা।
অন্য কিছু নয়।

ঋতু

প্রত্যেক ঋতুর আছে কিছু নিজস্বতা।
আছে কিছু বিশেষ চরিত্র, পোশাক ও প্রিয় রঙ।
কিন্তু বেশ কিছুদিন হল 
এদের আর চেনা যায় না আজকাল।
ওদের পোশাক আর রঙের বিন্যাসে
ঘটে গেছে বিচিত্র সব পরিবর্তন।
সব রঙ মিলেমিশে একাকার।
পোশাক আবছা।
তখন থেকেই পৃথিবী ভুগছে নানান অসুখে,
অভূতপূর্ব অতিমারীর লাগামহীন প্রকোপে।

কবে যে ঋতুরা আবার তাদের
নিজস্বতা ফিরে পাবে !
কেউ জানে না। কেউ কি জানে?
পৃথিবী কবে সুস্থ হবে আগের মতো।

Comments

Popular posts from this blog

কবি ঝিলম ত্রিবেদী

কবি অরূপ দত্ত