কবি নমিতা চৌধুরী
নমিতা চৌধুরী
সত্তর দশকের কবি। কাব্যগ্রন্থ ২৩টি।গদ্যগ্রন্থ ১টি।ইংরাজীতে অনূদিত ৩টি। সম্পাদিত গ্রন্থ ১০টি।নান্দীমুখ পত্রিকার সম্পাদক।শান্তি সংস্কৃতি ও নারী সমস্যা সম্পর্কিত বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত।পাকিস্তান, বাংলাদেশ, কানাডা, ইওরোপ, অস্ট্রেলিয়া,ভিয়েতনাম,চীনদেশ সহ ভারতের বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে কবিতাপাঠে অংশ গ্রহণ করেছেন।বহু সম্মানে ভূষিত।
নোনা জল
বেড়ার গা বেয়ে চুঁইয়ে নামছে জল
নিরন্ন পরিবারের মন খারাপ করা ভেজা বালিশটি তক্তপোশের এক কোনে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে
কেউ ফিরেও দ্যাখেনা
রোদ উঠলে হয়তো কেউ শুকোতে দেবে
ছেঁড়া চাটাইয়ের পাশে
ওর খিদে তেষ্টা নেই
আছে তুলোর মধ্যে লুকোনো ভরা দিনের স্মৃতি
বালিশটি যতখানি জানে নোনা জলের কথা
আর কী কেউ জানে ততখানি!
স্নান
তখন মেঘ ভরা গোধূলি লগন
কীট নাশক ছড়ায়নি কেউ বকুলের বনে
অবিরাম ঝরে পড়া মুগ্ধতায় ভরেছে বাতাস
সেই আলো-মুখে দেখি দীর্ঘ কোলাজ
আজও তার বিস্তৃত ডানার ছায়ায়
গুনগুনিয়ে ওঠে সেই স্বর
শূন্য মস্তিষ্কের কোষে বেজে ওঠা
সুরের লাবণ্যে ডুব দিয়ে
স্নান সেরে উঠি ।
বিচিত্র সিংহাসন
আটপৌরে ভাষারা যখন এ ওর নাম ধরে ডাকে
তখন নিজের মধ্যে শুরু হয় এক নতুন জিজ্ঞাসা
হয়তো তেমন কিছু নয় তবু
সারাদিন উর্দিপরা ঝলমলে দিন শেষ হলে
অলৌকিক বাগানে জ্যোৎস্না নেমে আসে
মুঠোমুঠো ফুলঝুরি জ্বালিয়ে
গাছেদের নৈশ উৎসব
আমরা তমসা নদীর কাছে উবু হয়ে বসে পাঠ শুনি ভালোবাসার প্রস্তাব পেশ করি
সেই মতো বিকেলের উড়তে থাকা কয়েকটি ঘুড়ি
তাল গাছের মাথায় দোল খেয়ে যায় নিপুণ বাহারে তথ্যখচিত সেই দৃশ্যাবলি আজ রাতটুকুর সঙ্গে মিশে থাক
মিশে থাক আমাদের সহজ আয়তনে
সবকিছু সরলতা দিয়ে মুড়ে সুকৌশলে কেউ
রেখে গেল বিচিত্র শূন্য সিংহাসন।


Comments
Post a Comment