কবি শ্যামল জানা
শ্যামল জানা
জন্ম:-৭ নভেম্বর, ১৯৫৭,বরানগরে৷ প্রাথমিকভাবে ইঞ্জিনীয়ারিং-এর ছাত্র৷ পরে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভিসুয়াল আর্টস-এ(ইউরোপীয় চিত্রকলা) স্নাতকোত্তর৷ মূলত ফাইন আর্টস-এর ছাত্র হলেও ছবি আঁকার পাশাপাশি প্রচ্ছদ ও অলংকরণশিল্পী হিসেবেও সুপরিচিত৷ কলকাতা ছাড়াও ভারতবর্ষের মূল শহরগুলিতেও বহু জাতীয়স্তরে চিত্র-প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন৷ আন্তর্জাতিকস্তরেও ডিজিটাল গ্রাফিক্স-এর প্রদর্শনীতে সুদূর লাতিন আমেরিকায় ভেনেজুয়েলায় অংশগ্রহণ করেছেন।ডিজিটাল প্রযুক্তিকে একশো শতাংশ ক্রিয়েটিভ আর্টের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা ও তাকে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে পশ্চিমবমবঙ্গে প্রথম “ডিজিটাল গ্রাফিক্স”-এর সূত্রপাত করেন তিনি৷ পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সাড়া জাগানো “ডিজিটাল গ্রাফিক্স”-এর প্রদর্শনীও করেন৷ সেই সূত্রে এবং সাহিত্যসূত্রে তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকার তথা ভারত সরকার-এর প্রতিনিধি হয়ে গেছিলেন সুদূর সাউথ আফ্রিকায়, লাতিন আমেরিকার একাধিক জায়গায় আন্তর্জাতিক সেমিনারে।একক ও যৌথভাবে সরকারি ও বেসরকারি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট্রি ফিল্ম করেছেন৷তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ :-ক্রোধের মুখ রোদের মতো (১৯৯২),কয়েকটি কবিতা (১৯৯৫),কুয়াশা নামক মেয়েটিকে (২০০১),ভুল (২০০৬),এক ঠিকানায় (২০০৭-যৌথ),টিপছাপ (২০০৭),ভ্রমণ সিরিজ (২০১০),মিঠিকথা (২০১৬),টিপছাপ-২ (২০২০)৷সম্পাদিত গ্রন্থ – সাহিত্য দৃশ্যকলা এবং (চিত্রকলা বিষয়ক),সুনীল সাগরে (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় স্মরণে কবিতা সংকলন - যৌথভাবে) পুরস্কার:– বাল্মিকী পুরস্কার, কিশোর দুনিয়া পুরস্কার, নিত্যানন্দ স্মৃতি পুরস্কার, বাংলা কবিতা অকাদেমি সম্মাননা, ইসক্রা সম্মাননা, শালিমার চিল্ড্রেন ডিটেকটিভ পুরস্কার, এখন রোদ্দুর নির্মল ব্যানার্জী স্মৃতি পুরস্কার প্রভৃতি।
গুচ্ছ কবিতায় কবি শ্যামল জানা
আলো
তুমি সেই দেমাকী শীতকাল...
তোমার নিজস্ব একটি চাঁদ আছে৷ কমলা রঙের!
তুমি ভোরের প্রথম পাতা ওল্টালে,
আশি শতাংশ কুয়াশা তোমার কথা শোনে ৷
দয়া করে একটা-দুটো মেঘের বকলস তুমি খুলে রেখেছো...
অথচ, যতবার তুমি শূন্যে বৃষ্টি লেখো, ততবারই
বানান ভুল হয়ে যায়! তখন তোমার একটু রাগ হয়!
আর, জোরে হিমশীতল একটি ফুঁ দাও...! সাথে সাথে
উত্তর থেকে দক্ষিণে ছুটতে থাকে কনকনে হাওয়া...
এত কিছুর পরেও, আমি তোমাকে ঘৃণা করি শীতকাল!
কেন না, ফুটপাথের ওই ন্যাংটো শিশুটির জন্যে এখনও, একটাও
রোদ্দুরে বোনা সোয়েটার তুমি বানাতে পারোনি!
জিজ্ঞাসা
ঢুকে পড়েছি বসন্তের স্পর্শের ভিতরে৷
খুব হাওয়া দিচ্ছে... ...
যেন, একটু আগেই শীতকাল গুটিয়ে নিয়েছে তার চামড়া!
আর রাত্রি— যেভাবে তার ভেতরে হাঁটু মুড়ে বসে থাকে ভোর,
ঠিক সেভাবে একেবারেই নয়! ভেতরে তার
একটু একটু করে, চুঁইয়ে চুঁইয়ে নামছে ধর্ম, অন্ধকার তাক্ করে...
এখন একটা অক্ষরও এমন নয়, যার গায়ে ধর্মের রক্ত লেগে নেই!
প্রাণহীন ওই ত্রিফলা ধাতুও জেনে গেছে ধর্ষণের ব্যাকরণ!
আর, অক্ষিকোটরে জমে থাকা অশ্রুর
সেই অন্ধ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
নিজের শরীরে হাত বুলিয়ে দেখি— কোনো উত্থান নেই...
— আমি নপুংশক হয়ে গেছি!
তবুও ভিক্ষের মতো করে তোমাদের সব্বাইকে জিজ্ঞেস করি—
রক্ত কি তার নিজস্ব রঙটাও বদলে নিতে চলেছে?
২১শে ফেব্রুয়ারি
এই সেই অশ্রু চলাচলের চাতাল৷ তার—
করতল এবড়ো-খেবড়ো৷ ফাটলে ফাটলে নির্জনতা,
নির্জনতার ভেতরে চাপাপড়া ক-টি রক্তমাখা অক্ষর...
ওপরে টোল খাওয়া নিজস্ব আকাশ— ২১শে ফেব্রুয়ারির...
মাঝে মাঝে পূর্ণ আর ঘোলাটে চাঁদ আসে সেখানে,
দু-হাতে মেঘ সরিয়ে সরিয়ে তাকে স্পষ্ট করি৷ দেখি—
অজস্র মন খারাপ বিঁধে আছে তার শরীরে! থাক্
আমি শুধু তার জ্যোৎস্না থেকে খুলে নিই
মাপমতো একটি শাদা চিৎকার!
তারপর রাখি আমার খাতার শূন্যতার ওপরে৷
থাকে না সে! কয়েকটি অক্ষর তখনও অনুপস্থিত!
অথচ, শাদা শূন্যতাকে খায় রাত্রির অন্ধকার!
সব অক্ষর না থাকায়,
এখনও আমার আর লেখা শেষ হল না... ...

Comments
Post a Comment