কবি কামরুল বাহার আরিফ
কামরুল বাহার আরিফ
জন্ম : নভেম্বর ৭, ১৯৬৫, খুলনা। বেড়ে ওঠা, শিক্ষা জীবন অতঃপর বসবাস রাজশাহীতে। পিতা চিশতী এস. এম. এস. দাহার, মাতা চিশতী জাহান আরা দাহার। হিসাব বিজ্ঞানে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর। পেশা : উপ-পরিচালক (বাজেট), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রকাশিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ : সূর্যের ম্যাপ ছুঁয়ে (২০০৮),গোধূলির পাণ্ডু নীলিমায় (২০১২),কে ডাকে আগুনপথে (২০১৩),বর্ষা তো জলের বর্ণ (২০১৫), রাঙারোদ ছুঁয়েছে পৌষের শরীর (২০১৫), দ্বিতীয় সংস্করণ (২০১৬, বইমেলা), প্রেমবৃত্তে জল ও নারী (২০১৭),কে ওড়ে নদীপারের নায়ে (২০১৭), পাখিটি আর জলে নামেনি (২০১৯), পাতার ওপর লেখা আছে আমার কিছু (২০১৯), ও সর্বনাশ এসো (২০২০),নদীতে ছুঁয়ে দেয় ঠোঁট (২০২১),তুমি জেগে রবে, জেগে রহো-- (২০২১),ইজেলে উঠুক চড়ে ইনানী মেয়ে (২০২১ প্রকাশের পথে)। সম্পাদনা : মৃদঙ্গ
সম্মাননা : কান্তকবি মেলা, রাজশাহী (২০১৬, উচ্চারক আবৃত্তি কুঞ্জ, চট্টগ্রাম (২০২০)।
গুচ্ছ কবিতায়
কবি কামরুল বাহার আরিফ
মায়াহরিণ
নাগালের বাইরে বৃক্ষের কচিপাতা হরিণের খুব পছন্দ
মায়াবী চোখে সেই কচিপাতার দিকে হরিণেরা তাকালে--
বনের শাখামৃগরাও কেমন প্রেমে পড়ে যায়!
কচিপাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে তারা
প্রেমের উপহার ঝরাতে থাকে মায়াহরিণের দিকে
সেই উপহার ও শংসায় হরিণেরা চিরকাল
কচিপাতার মত সবুজাভ থাকে।
মায়াবীনী চোখ কখনো প্রেমে পড়ে না
মায়াবীনী চোখ শুধু প্রেমে জড়িয়ে দেয়
পৃথিবীর যত প্রেমার্ঘ শুধু ঐ মায়াহরিণের জন্য।
উপকূলের আশ্রয়
তোমার টিপ
মেরুন, সবুজ, গোলাপি বা লাল যে রঙেরই হোক
তোমার কপালে
তা যেনো বিশাল আকাশে আলোর জ্যোতিষ্করূপ!
তোমার চোখ--
মায়ার অবিরত ঢেউ-এ এক অসীম সাগর
আর কপাল--
টিপের রঙে রঙিন দীর্ঘ উপকূল- প্রশ্রয়ের আশ্রয়।
আমি যখনই তোমার চোখে ডুবতে ডুবতে
জলসমাধির দিকে এগিয়ে যাই
তখনই তোমার কপালের নানা বর্ণের টিপগুলো
অদৃশ্য সূতোয় টেনে নিয়ে আমাকে
তোমার কপালের দীর্ঘ উপকূলে আশ্রয় দিয়ে
উৎকণ্ঠার মায়ার শাসনে বলো,
এভাবে চোখের মায়াজলে ডুবে গেলে
উপকূলে তো বৃক্ষ জন্মাবে না আর!
কেমন করে ফুটবে নানা রঙের ফুল?
টিপ তো ফুলের প্রতিরূপে আকাশের জ্যোতিষ্ক।
মনে রেখো,
‘ডুবতে ডুবতে কখনো উপকূলের দৃষ্টিসীমা হারাতে নেই।’
কুল ডোবে হায়!
খোলা চুলে চেয়ে আছি মননদী হয়ে
লেগেছে বাতাস মৃদু তার ঘ্রাণ বয়ে।
নদীর তরঙ্গে তাই মেঘের ছোঁয়ায়
বৃষ্টিও ঝরছে অঝোর ধারায়
কী হারাবে নদীকূলে
উথলিয়ে দুলে দুলে!
আকাশও মজিছে ভুলে
রমণীর খোলা চুলে!
ও রমণী বাঁধো খোপা-- বেলা বয়ে যায়
দুকূল ছাপিয়ে নদী-- কুল ডোবে হায়!


Comments
Post a Comment