কবি প্রণব বসুরায়
প্রণব বসুরায়
আজন্ম হুগলি জেলার শ্রীরামপুরের বাসিন্দা। কর্মক্ষেত্র ছিলো পূর্বতন এলাহাবাদ ব্যাঙ্ক। প্রথম মুদ্রিত কবিতা ১৯৬৪ সালে। প্রকাশক হিসেবে যুক্ত ছিলেন “কন্ঠস্বর” পত্রিকার সঙ্গে। পরে যুগ্ম সম্পাদনায় প্রকাশ করেন “শীর্ষবিন্দু” পত্রিকা। ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত একক সম্পাদনায় ওই পত্রিকা প্রকাশ করেছেন।লেখালিখি মূলতঃ লিটল ম্যাগাজিনে যদিও দেশ, কৃত্তিবাস, কবি সম্মেলন ইত্যাদি পত্রিকাতেও তাঁর কবিতা স্থান পেয়েছে। বৈদ্যুতিন ই-ম্যাগাজিনেও নিয়মিত লিখছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থঃ-প্রণয়রাংতা,এ বাড়িতে রান্নঘর নেই,ফ্রেডরিক নগরের বাসিন্দা,মাইনাস ডেসিবল,চর্বির মোম যেটুকু আলো দিতে পারে।এছাড়া যুগ্ম সম্পাদনায় “শীর্ষবিন্দু—কবিতার ৫০ বছর”।
গুচ্ছ কবিতায়
কবি প্রণব বসুরায়
জিভের সঙ্গে জিভ, শঙ্খ লেগে যায়
তুমি তাও ঘুমিয়ে পড়েছো
ছোট বড়ো নিন্দে কথা বায়ুর কলাম থেকে
চলতি মানুষের পকেট ও বক্ষ বন্ধনীর খাঁজে
এলোমেলো জমা হ’তে থাকে--
হ্রস্ব উ আর আ-কারের কে বেশি অনিবার্য
তাই নিয়ে মত বিনিময় চায়ের দোকানে
ষাট থেকে বাহাত্তরের শিশুরা, এতে
ওয়ার্ড মেকিং-এ বুঁদ হয়ে যায়...
জিভের শঙ্খ কি ভোর বেলা খোলে?
এই নিয়ে কেউ ঘুম-বাড়ি যায়!
মূর্খ তথ্য
আমার দিক থেকে আজ কোনো প্রতিরোধ নেই
ইচ্ছে নেই পরিখা পেরোনোর
রাতের আভার পুড়ে যায় মোম, সাবেক বাতিদানে
নেহাত অগ্নিপথ পেরোনোর কাজ বাকি রয়ে গেছে
ছেঁড়া তোয়ালে জড়িয়ে তাকে রেখেছি কাছেই।
ইতিহাস ঘাঁটতে ঘাঁটতে চলে যাই অচিন পাড়ায়
অবনী-আবাসের দ্বার খুলে যায় তীব্র কাঁপনে
নেহাৎই মূর্খ তথ্য, ইরাবতী জানে
আমাদের কল্পবিজ্ঞান চর্চা শেষ হয়ে গেলে
লেবুপাতার গন্ধ লেগে যাবে পাঁচিল-পাঁচিলে
কবিতা-১৪০
নিদ্রা ও অনিদ্রার মাঝের দোলায়মানতায়
জেগে থাকে এক দীর্ঘ নিঃশ্বাসের উপত্যকা
সেখানে ফুল ঝরে, অকপট বাতাস আর নীল ঘূর্ণি
রোদ্দুরে, রাস্তায়, ছায়া ছো্ট হয়ে আসে, রুমালে সুগন্ধী
আর লিচুতলার বাগানবাড়িতে, শার্সি খুলেই নদী...
ঘুম আসতে এক একদিন দেরি হয়ে যায়
ভাসতে ভাসতে পেরিয়ে যাই নদীর স্রোত, মহিমগঞ্জের হাট
জগদ্ধাত্রী পুজোর সাবেক প্যান্ডল...


Comments
Post a Comment