কবি অর্ণব আশিক
জন্মঃ ১ জানুয়ারি ১৯৫৫ খৃষ্টাব্দ।শিক্ষাঃ স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর।বাংলা সাহিত্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
কর্মজীবন শুরু কলেজে অধ্যাপনা দিয়ে, পরবর্তীতে সরকারী কর্মকর্তা হিসাবে অবসর।প্রকাশিত বই ; নয়টি।
গুচ্ছ কবিতায়
কবি অর্ণব আশিক
আগামী ফাগুনে খুন হবো
আর কিছু নেই
যা ছিলো দিয়েছি উজার করে
যে নারী ফিরিয়েছে মুখ কুহকের আচ্ছাদনে,
নৈঃশব্দের বর্ণমালা জপে
তাঁকেও দিয়েছি
অকৃত্রিম ভালোবাসার এক মুঠো উষ্ণ বাতাস
যাতে বসন্ত এলে আর কাউকে দিতে পারে
কুহকের পরিবর্তে কম্পমান উষ্ণ দুটি হাত।
আর কিছু নেই
হৃদয়ের গহীনে যত ব্যথা, ফাগুন হাওয়ায় উদ্দাম
সব নিয়ে আগামী ফাগুনে খুন হবো
শুধু তোমার হাতে, এই অপেক্ষায় আছি।
স্মৃতির উদ্ভিদ
ঘরটাই এখন আমার কর্মভূমি
বাইরে আসতে পারি কদাচিৎ, দেখি সন্ধ্যা হয়ে আসছে
একটা নিরুদ্দেশ সুরের গন্ধ এসে কানে লাগে
কোথাও সরোদ বাজছে
বারান্দার গ্রীলে অলকানন্দা ফুটেছে, বৃষ্টির ফোঁটায় সেই ঘ্রাণ
মেঘ বলে আমি হলাম ঝর্ণামুখী স্বাদ।
জলভরা আলো ভরে নাও তোমার শূন্যতায়।
দূরে বৃহৎ দালানের ফাঁকে সূর্যাস্ত দেখছ
জঘন্য নগরায়ণের অভিশাপ নিয়ে
আকাশ থেকে নেমে আসছে মেঘমেদুর মলিন রোদ
ঋতু আটকে গেছে মেঘ আর বৃষ্টি ফোঁটায়
এ এক বিরহ ব্যথা জলে ভরা গর্ভবতী আকাশের।
এইসব সান্ধ্য দৃশ্য আমাকে বিষন্ন করে
ভাবি মেঘ বৃষ্টি ও জল কী জন্মায় স্মৃতির উদ্ভিদ।
ভ্যানগগের মূর্ত বিষাদ
আজ সন্ধ্যায় আকাশে উজ্জ্বল চাঁদ ছিলো
আমি ছিলাম একা এবং
গগাঁ ও ভ্যানগগের বিষন্ন কয়েকটি মূর্ত বিষাদ
আমাকে সঙ্গ দিলো
আমি প্রানখুলে আমার অনন্ত দুঃখকে
নম্র করে আত্মার কাছে পোড়া রুটির মত রাখলাম
ভিখারির কাছে চাঁদ আর পোড়া রুটি তো একই।
চাঁদের উজ্জ্বল বলয়, তারার লালিত্য
গগাঁ ও ভ্যানগগের মূর্ত বিষাদ
আমাকে প্রভাবিত করলো
আমার ক্রোধ, ঘৃণা ও পাখির কলস্বর
আমার বুকে চিত্রিত দেয়াল এঁকে দিলো
আমি আকাশে ও আমার চারপাশের আঙ্গিনায়
মানুষ দেখলাম, মানুষের বিষাদ দেখলাম
'বুঝলাম শিল্প মানুষের জন্য, শিল্পের জন্য মানুষ নয়'
এবং
আলোকিত আত্মার কাকলি শুনলাম
যাকে বুকে নিয়ে বাড়ি পৌঁছলাম।


Comments
Post a Comment