কবি জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়
জন্ম : জুলাই ২৫,১৯৫৯ (শ্রাবণ ৮,১৩৬৬ বঙ্গাব্দ)।বাঁকুড়ার কুশমুড়ি গ্রামে।প্রাণীবিজ্ঞানে সাম্মানিক স্নাতক,শিক্ষাবিজ্ঞান ও বাংলায় স্নাতকোত্তর, বি.এড.। পেশা-শিক্ষকতা।স্কুলজীবনে লেখালেখি শুরু অজস্র কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, আলেখ্য,সমালোচনামূলক লেখা,কয়েকটি নাটক এবং একটি অসম্পূর্ণ উপন্যাস।তাঁর বেশিরভাগ লেখাই দেশ-বিদেশের অজস্র নামি ও অনামি পত্রিকায় প্রকাশিত।প্রকাশিত বই : কাব্যগ্রন্থ -- অভীষ্ট শব্দের উজানে(২০১১), ত্রিভুজ সংক্রান্ত সমীকরণ (২০১৮)এবং অণুগল্প সংকলন -- অণু অম্বুবান (২০১৮)।এছাড়া বেশ কয়েকটি যৌথ সাহিত্য সংকলনে লিখেছেন।সম্পাদিত পত্রিকা তন্বী (১৯৭৭-৭৮), দোলা(১৯৭৭-৭৯), স্বচ্ছন্দ(১৯৭৮-৮০)।প্রাপ্ত পুরস্কার ও সম্মাননা : অনামী সংবর্ধনা ও পুরস্কার(২০১০),অণুগল্পের জন্য বর্ধমান জাগরণীর পুরস্কার(২০১১),অণুপত্রীর পুরস্কার(২০১১),সোপান সাহিত্য পুরস্কার(২০১৩),স্পর্শ সম্মাননা(২০১৩),ভোরাই সম্মাননা(২০১৮),আলোর জোয়ার সম্মাননা ও পুরস্কার(২০১৯),বেলদা মহা সাহিত্য আড্ডা(সম্মেলন) -এর সাহিত্য রত্ন সম্মাননা -- ২০১৮,লোককবি এনামুল আলি খান স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার -- ২০১৯,তুলি কলমের আকাশ সম্মাননা -- ২০২০ ইত্যাদি।
গুচ্ছ কবিতায়
কবি জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়
ছবি
জমাট মেঘটি বিষাদ লিখেছে।
সদ্য বিধবার শোকে ক্ষারপথ
কান্না বা শোকচিহ্ন চেনেনি।
ফুলেরা অচেনা বুকের ওমে
নবোঢ়ার মতো।
বৃষ্টিগাথা প্রবল থামলে
পানকৌড়ি ডানার গায়ে
প্রাক্-শিকারের গা গরম।
হাঁসের উল্লাসডুবে
দিনশেষের চাকচিক্য।
ছবিটি টাঙিয়ে রাখছে
প্রতীক্ষালয়ের কলঙ্কদেয়াল।
বিরসা মুন্ডা হল্ট
অচেনা জঙ্গল ফুঁড়ে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে একটি রেল হল্ট
যার নাম দেখে ইতিহাস ঘা দেয়।যোদ্ধার জীবন।বনভূমি আর দখলদারের কঠিন লড়াই। মনে পড়ে ভাগলপুরের সেই স্টেশন।দেখি বনফুল বলাইচাঁদ হাতে ডাক্তারি ব্যাগ রাতের নির্লিপ্ত ট্রেন চলে যায়।আশাহত।উদাস দৃষ্টি থিতু না হতেই দেখেন পিছু হেঁটে ফিরে আসে ট্রেন।অথবা কার্মাটাঁরের কর্মযোগী ঈশ্বরচন্দ্র নির্লিপ্ত চোখে
তাকিয়ে আদিবাসী রোগীর সেবায় ডুবে যান। চম্বল রেলের কোনো হল্ট হতেও বাধা নেই।হেঁটে যান আদিবাসী মা আর তার সংসার।অভাব বধের জন্য ঘর ছেড়ে চলেছেন মজুরির খোঁজে। এই হল্ট তাঁদের।সারাদিন মনুষ্যহীন এই পথ।ক্রমাগত আশীর্বাদী শালপাতা ঝরে বিরসা পুরুষের মাথায়...। অভাজন আমি দাঁড়িয়েছি তোমার সামনে... একদিন।
বাউল
ঘরকে আপন ভেবে মন রাখি
অনেক বছর কাটে
আঘাতে আঘাতে নীল
ঘর আমার নয়।
নদীকে আপন ভেবে দুহাতে জড়াই
ওজন কমিয়ে মাখি জল
নদীও নতুনগামী পাশ ফেরে সুখ
সে আমার নয়।
গাছটি জড়িয়ে তাতে মাথা রাখি
কথা বলি দিন যায়.......
পুরোটা নির্লিপ্ত প্রাণ সে আমার নয়।
হাওয়াকে চাদর ভেবে ডুবাই শরীর
নিরিবিলি বয়ে যায় হয় না আমার।
মাটিকে আপন ভেবে দেহটি বিছাই
জীবন ভেবেছি তাকে হয়তো আধার
অধরা মাটিও দেখি বড়োই অচেনা।
মন গেল মায়াজালে কিছুই যে নেই!
সব ছেড়ে খুঁজি তাই দেহাতীত সুখ।


Comments
Post a Comment