কবি সমর সুর
সমর সুর
জন্মঃ নদীয়া জেলার রাণাঘাট শহরে।স্নাতক।নব্বই দশকে লেখালেখি শুরু।বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা প্রকাশ হয়।২০০০সালে প্রথম কবিতার বই 'ভাষাতাঁতি দ্বিতীয় কবিতার বই ২০০৬ সালে 'হাঁটু অব্দি রাত্রি নেমেছে'।তারপর লেখালেখি থেকে সরে যাওয়া পুনরায় ফিরে আসা ২০১৯ এ।বিভিন্ন পত্রিকায় লিখতে পেরে ভাল লাগছে এই ফিরে আসাকে।
গুচ্ছ কবিতায়
কবি সমর সুর
জলফড়িং
কোলাহল থেকে শূন্যতা রচনা করে হেঁটে যান কবি
তাকে ছুঁয়ে ফেলা এতই সহজ
আমি তার হেঁটে যাওয়া দেখি,কি ভাবে ক্রোধ বশীভুত
করেছেন রূপক ভঙ্গিমায়।
প্রতিদিন দেখি
জানালার ধারে বসে তিনি পাখিদের বিশ্রাম দেখেন
নিজের বানানো দূরবীনে
সবুজ পাতার মতো তার স্পর্ধা হাওয়ায় দোলে।
আপনাকে যখনই দেখেছি হেঁটে যেতে
মাথা নিচু করে রাধিকানগর দিয়ে
ঠিক সেইসময়ে সিনেমা হল থেকে একদল
জলফড়িং উড়ে যেতে।
আপনার বানানো দূরবীন নিয়ে একবার দেখতে চাই
প্রাচীন ভারতবর্ষকে মোহরকুঞ্জ থেকে।
গতানুগতিক
এতকাল যেমন ছিলাম আজও তেমনই আছি। শুধু অন্ধকার বেড়েছে।অসুখ, ঘুম,খানাখন্দ।একমাত্র সকালের ট্রাফিক সিগন্যালকে দেখেছি খুব শান্ত থাকতে। প্রতিদিন দেখি সুখি মানুষেরা ভোর দেখতে বের হন।গল্প করেন অসুখের, মাছের।কদম ফুলের মতো সূর্য। নরম ও স্নিদ্ধ। ঝরঝরে আকাশ।এই সব কিছুই দেখা হয় না আমার।দৌড়ে ট্রেন ধরি।ভোরের ট্রেন নির্ধারিত সময়ে আসে। ফুরফুরে মন নিয়ে চলে যায় দূরে।মাথা ঠুকে দোকান খোলেন কর্মচারী যুবক।ক্যাশবাক্স আগলে বসে আছেন রামপ্রসাদ সেন।ভোরের ট্রেন ফিরে আসে একে একে। সন্ধ্যা নামে নাটমন্দিরে। আমি যেমন ছিলাম আজও তেমনই আছি।শুধু কাল ভোরভোর বের হবো যদি সস্তায় পাওয়া যায় কিছুটা সবুজ।যাবার পথে রামপ্রসাদ সেনকে অনুরোধ করবো। এমাসে ভীষন টানাটানি চলছে আর একটা মাস অপেক্ষা করুন।
পরিচয় পত্র
একটুকরো মেঘ পিছু নিতে নিতে
অবশেষে আমায় ভিজিয়েই দিলো।
কি করি এখন শার্টের পকেট ভর্তি জল
সামান্য দূরে বটগাছের নিচে তরুণীর অপেক্ষায়
মহামান্য শিব।
সেখানে মেঘ নেই,বৃষ্টি নেই শুধুই শ্যামল প্রার্থনা
এবসন্তে যেন ফুল ফোটে মেয়েটির ঠোঁটে।
রাস্তা পার হয়ে রাস্তা ধরি
একটুকরো মেঘ ভিজিয়ে দিয়েছে
ব্যাগের ভিতর রাখা আমার পরিচয় পত্র,মোরগের ঝুটি...


তিনটি সুন্দর কবিতা পড়লাম
ReplyDelete