কবি অমিতাভ বিশ্বাস


অমিতাভ বিশ্বাস

জন্মঃ ১৯৭২ সালে ২৮শে বৈশাখ, নদিয়া জেলার বড়নলদহ গ্রামে। বর্তমানে নদিয়ার অভয়নগর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। ১৯৯৮ সাল থেকে কবি অজিত বাইরী সম্পাদিত প্রাচীর পত্রিকা 'কৃষ্টি'র দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৭ সাল থেকে মুদ্রিত 'কৃষ্টি' সাহিত্য পত্রিকাটির সম্পাদনার দায়িত্ব বহন করছেন অমিতাভ। পেশাঃ শিক্ষকতা। পশ্চিমবঙ্গের প্রচুর নামী-অনামী  পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। ছাপার অক্ষরে প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের 'প্রাহ্ন' পত্রিকায়। পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি সভাগৃহে কবি নীরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তীর হাতে উদ্বোধিত 'কবিতা প্রতিমাসে' থেকে ২০০৬ সালে কোলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থটির নামঃ "একদিন প্রতিদিন"।কবির পায়ের তলে সর্ষে, ঘুরেছেন ভারতের নানা প্রান্তে। কখনও আরণ্যক জীবনে প্রবেশ করেছেন, কখনও পাহাড়চূড়ায়, কখনও গিরিখাতের সর্পিল পথে, কখনও সমুদ্রের প্রশান্ত ব্যাপ্তি ছুয়ে গেছে মন, কখনও গভীর ভাবে মগ্ন অন্বেষণে, শব্দের খনিগর্ভে প্রবেশই যেন তাঁর ঘোর অন্বেষা।  প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থঃ একদিন প্রতিদিন (২০০৬), পৃথিবীর পথ আমি হাঁটিতেছি (২০০৮), শূন্যতার ভাস্কর্য (২০১০), শিরোনামহীন শিশিরলিপি (২০২০), অন্ধকারের রেখাচিত্র (২০২০)। গল্প সংকলনঃ অমলকান্তির মৃত্যুবৃত্তান্ত (২০২০)। 

গুচ্ছ কবিতায়                                                            কবি অমিতাভ বিশ্বাস


মুখাগ্নি.. 

ফিরে গিয়ে আবার ফিরে আসা যায়...
কিন্তু কার জন্য সে ফিরতে চাইবে 
সুরের সম্পানে ভেসে যেতে যেতে 
থাকে কি কোনো পিছুটান 

মৃত্যুর বান লেগেছে যেন 
পরপর মৃতদেহ ঘাটে
কে আছে কি জানি তখন বাটে.. 

সেদিন ডোমকে পরম বন্ধু বলে জেনেছি 
দাহকারীর দাহকর্মে প্রসন্ন হয়েছে চিত্ত

শবযাত্রীহীন শ্মশানে দাঁড়িয়ে 
দূরের তালগাছের শীর্ষ পাতায় 
কম্পন অনুভব করেছি একাধিক একাকিত্ব 

লাজুক কথাগুলো.. 

যে সকল কথা কোনোদিন লেখা হবে না 
যে সকল কথা প্রতিদিন গিজগিজ করবে মাথায় 
মার্জিনের আড়ালে লাজুক দাঁড়িয়ে যে কথাগুলো 
মুখচোরা কথাগুলো আবার না বললেই নয় ---

নিজেকে গোহারান হারিয়ে দিয়ে 
                             জিতিয়ে দিচ্ছ আত্মজকে... 
এই হেরে যাওয়ার মধ্যে জীবনের নানা ওঠাপড়া, 
এই জিতে যাওয়ার মধ্যে জীবনের নানা রোদ্রমেঘ। 

শূন্যে দাঁড়িয়ে তুমি দেখছো --
আর একটু সুচারু কাটাতে পারলেই 
হরেক সমস্যা থেকে উত্তরণ ;
গোল করে জিতে ফিরবে ছেলেটা। 

কেউ যেন তোমাকে লাল কার্ড দেখিয়েছে... 
হার-জিতের বাইরে তুমি দাঁড়িয়ে আছো
অথচ উপভোগ করছো ময়দানের খেলাটাকে 
সন্তর্পণে-নীরবে-নিভৃতে। 

স্মৃতির কোলাজ 

লঘু গানের সুরে শিস দিতে দিতে 
শ্মশানের পথে চলেছে যে মানুষটি 
তার প্রতি তোমার অপার মুগ্ধতা --

আগুনের দাউদাউ তোমাকে 
পোড়াতে পারবে না
সে কথা তুমি জানো... 

একটা মজা নদীর পাকে পোকা খেতে আসা
একটা প্রাঞ্জল চড়ুই আটকে আছে দীর্ঘক্ষণ 
তার ডানার ঝাপটে কাদা মাখামাখি, 

খই আর পয়সা ছেটাচ্ছে শবযাত্রীরা 
ঐ খই কুকুরে খায় পাখিতেও খায়
পয়সা হাতে তুলে নেয় কেউ কেউ.. 

একটা উসকোখুসকো বাউল
জীবন দোতারায় গান ধরেছে 
'হরি দিন তো গেল সন্ধ্যে হলো 
পার করো হে আমারে... '

পরিচিত যারা যারা সেদিন শ্মশানে যেতে পারেনি
তাদেরকে একটা ক্যানভাস উৎসর্গ করবো বলে
টুকরো টুকরো এই ছবিগুলো মুখাগ্নির পর 
কোলাজ করে স্মৃতিতে ধরে রেখেছি। 





Comments

Popular posts from this blog

কবি ঝিলম ত্রিবেদী

কবি অরূপ দত্ত

কবি সুধাংশু রঞ্জন সাহা