কবি মোহাম্মদ হোসাইন
মোহাম্মদ হোসাইন
জন্ম:- ১৯৬৫ সালের ১ অক্টোবর, সুনামগঞ্জে। লেখালেখি শুরু ছোটবেলাতেই। নানা পত্রিকায়, নানা মাধ্যমে চল্লিশ বছর ধরে নিরন্তর যাত্রা। কবিতাই তাঁর ধ্যান, নিমগ্ন আরাধনা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে সম্মানসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে পেশা হিসেবে নিয়েছেন শিক্ষকতাকে।প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:-ভালোবাসা নির্বাসনে গেছে (১৯৯৫),মেঘগুলো পাখিগুলো (২০০১),অরণ্যে যাবো অস্তিত্বে পাপ (২০০৩),পালকে প্রসন্ন প্রগতির চাকা (২০০৪),ভেতরে উদগম ভেতরে বৃষ্টিপাত (২০০৬),মেঘের মগ্নতায় রেশমি অন্ধকার (২০০৯),বৃষ্টির গান মায়াবাস্তবতা (২০১২),রূপপ্রকৃতির বিনম্র চিঠি (২০১৩),নৈঃশব্দ্যের এস্রাজ (২০১৪),অন্তিম জাদুর ঘূর্ণন (২০১৫),বিভাজিত মানুষের মুখ (২০১৫), অনূদিত রোদের রেহেল (২০১৫),ভুল হচ্ছে কোথাও ভুল হচ্ছে (২০১৭),তুমুল বেজে ওঠে অন্ধকার (২০১৯), হায়ারোগ্লিফিক্স (২০২০),ছবি ও চেনাগন্ধের মেটাফর (২০২১),ঈশ্বরের ছায়াচিত্র(২০২১)।.
গুচ্ছ কবিতায়
কবি মোহাম্মদ হোসাইন
লাল মৃত্তিকা
মৃতেরাও মাল খায়
সূর্যের ফলি থেকে তুলে আনে গরম সীসার ভাপ, চিমসে যাওয়া রুটিতে মাখায় দুঃখের স্বরলিপি
চোখের জল কষ্টে নয়, তৃষ্ণা জুড়ায়
যারা গদি নিয়ে ভাবে
আর যারা ভাবে নদী নিয়ে
উভয়ই কোনো না কোনোদিন মুখোমুখি হয়ে যায়
প্রেতছায়া বাইরে নয়, ভেতরেই নিত্য আসা-যাওয়া
কেউ দেখে, কেউ দেখায়
কারখানার মানুষগুলো জানে না পৃথিবীও বৃহৎ কারখানাই
সেখানে মোজাও হয়, মর্ষকামও হয়
আমরা যারা রুটি শ্রমিক, চিরদিন গম ক্ষেতই পাহারা দিই
আগুন দিয়ে সেঁকে নিই নিজেরই অন্তঃস্থ পোড়ারুটি
লবণ লাগে না, চোখের মাখানো জলই বেশ লাগে!
আমরা আসলে কখনও মরে যাই না, কাঁটা খেয়ে, উনুন খেয়ে, কেবল
লাল মৃত্তিকা হয়ে যাই...
মানুষের দেহাতি জীবন
উৎসুক মানুষের ভিড়ে কেঁপে ওঠে হাজারো চোখ
সত্য দৈববাণী নিয়ে আসে যেন হাওয়ার নাটাই
তখন সমস্ত প্রতিক্রিয়া ভেস্তে যায়,
যাকিছু অবোধ্য, পৃথিবীতে তা কখনো কখনো অগম্যই থেকে যায়
'সুন্দর' একটা আপাত ধারণা এর কোনো প্রকৃত ভিত্তি নেই
মানুষ প্রতারিত হতে ভালোবাসে তাই চোখের দেখাকেই সারস্বত মানে
এ কথা সত্য আবেগ বরাবর রঙচটা জিন্স পছন্দ করে, অন্তরের ঐশ্চর্যকে মূল্য দেয়না।
আমাদের দেহাতি জীবন, এসব বারোয়ারি বিষয় ভাবতে ভাবতেই সন্ধ্যা হয়ে যায়...!
অভিব্যক্তি
প্রত্যেক মানুষ নিজে নিজেই একটা লজিক তৈরি করে নেয়
আর তারা যার যার সুবিধেমত ক্ষমতা বা অক্ষমতা, দুটোকেই ব্যবহার করে
যদিও অসাড় সবই
আমাদের চোখগুলো প্রায়শ
আপেল সদৃশ কিছু দেখে বিস্মিত হয়
বিস্ময় জাগা মানুষের মৌল স্বভাব, তাই
তার ভেতরের কুসুমগুলো অপ্রাকৃত কিছু একটা সৃজনে মেতেছে বলে ধরে নেয়
আমরা তা দেখিনি কিংবা দেখার সময় আমাদের হয়নি !
এসবই মানুষের জানার বাইরে রয়েছিল
এখন, তার পরিবর্তন হয়েছে।
নিজের কাছে নিজেকে নিটোল হতে হয়
সবশেষে এই জেনেছে মানুষ।


Comments
Post a Comment