কবি নীলাঞ্জন শান্ডিল্য


নীলাঞ্জন শাণ্ডিল্য

জন্ম:- - ০৩.০৩.১৯৬৫।জামালপুর, বিহার, ভারতবর্ষ।পেশা - চাকুরি।কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধক, গল্পকার ও অনুবাদক।প্রকাশিত গ্রন্থ –বাংলা কবিতা – ক্যালাইডোস্কোপ, কমা সেমিকোলন ও দাঁড়ি, নিভৃতে নিজের সঙ্গে, কখনো রোদ কখনো ছায়া, আকাশ ছোঁওয়ার দুঃখসুখ।ইংরেজি কবিতা – Dream & Fire. ছড়া –ইলাটিন বিলাটিন।পুরস্কার – বনানী, ইস্ক্রা, নিত্যানন্দ পুরস্কার।


আমেরিকান কবি সিলভিয়া প্লাথের কবিতার অনুবাদে কবি নীলাঞ্জন শাণ্ডিল্য






















সিলভিয়া প্লাথ ১৯৩২ সালে আমেরিকার বোস্টন শহরে জন্ম নেন। ইংরেজি ভাষায় যাঁরা লেখেন তাঁদের মধ্যে তিনি নিঃসন্দেহে বিশ শতকের এক বিশেষ কবি। যখন মাত্র তিরিশ বছর বয়সে তিনি আত্মহত্যা করেন, তখনই তাঁর অনুরাগী পাঠকের সংখ্যা অনেক। তাঁর রচনায় তীব্র হতাশা, প্রবল আবেগ এবং মৃত্যু-আচ্ছন্নতা পাশাপাশি অবস্থান করে। বিষণ্ণতা তাঁর চিরসঙ্গী। মৃত্যুর অনেক আগেই ১৯৫৮ সালে তিনি লেখেন –“আমার জীবন যেন দুই জাদু বিদ্যুৎ তরঙ্গের দ্বারা চালিত –একটি আনন্দময় আর অন্যটি হতাশাপূর্ণ। কোনো একটা মুহূর্তে যেটি প্রবল, সেটিই আমার জীবনকে শাসন করে, প্লাবিত করে দেয়।” বিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে উত্তর আধুনিক কবিতার একটি ধারা হিসেবে যে ‘স্বীকারোক্তিমূলক কবিতা’ স্থান নিয়েছিল, সিলভিয়াকে তার অন্যতম অগ্রদূত মনে করা হয়। তাঁর বিখ্যাত বইগুলির মধ্যে রয়েছে অতিকায় ও অন্যান্য কবিতা (১৯৬০) (The Colossus and Other Poems), দেবসিংহী (১৯৬৫) (Ariel) এবং আত্মজীবনী ঘেঁষা উপন্যাস বেল জার (১৯৬৩) (The Bell Jar)। তাঁর প্রকাশিত-অপ্রকাশিত কবিতা নিয়ে ১৯৮১ সালে বেরোয় নির্বাচিত কবিতা। তাঁর সমাধিফলকে উৎকীর্ণ রয়েছে তাঁরই কবিতার একটি পংক্তি – “ভয়ংকর আগুনের মধ্যেও বপন করা যায় সোনালি গোলাপ।”


খানে তাঁর তিনটি কবিতার অনুবাদ দেওয়া হল, যার শেষ দুটি লেখা হয়েছিল মৃত্যুর অল্পদিন আগে।


এক দানব প্রেমিকের চোখের ভিতরে তাকিয়ে


এই তো দুটি অক্ষিতারা।

এই দুখানি কালো চাঁদ, যা

পঙ্গু করে দেয় দর্শনকারীকে।


যখনই কোনো সুন্দরী

সেই অন্তরে উঁকি দিতে ঝুঁকে পড়ে –

সুন্দরীর দেহ হয়ে ওঠে কুনো ব্যাঙ।


সেই আরশিতে

শব্দেরা উলটে যায়:

তারা তখন প্রিয় গুণমুগ্ধের

অগ্নিবাণ।


বাড়িয়ে দেওয়া হাতখানিকে

কেবল আহত করতে ঘুরে দাঁড়ায়,

আর বিপদের আগুনে জ্বালিয়ে তুলতে

আরক্ত ক্ষতটিকে।


আমি তো চেয়েছিলাম

ঐ দাহক কাচে আমার প্রতিচ্ছবিটি দেখতে –

আগুনের কোন্ সাধ্য যে সে

বিকৃত করে কোনো জাদুকরীর মুখ।


তাই তো আমি ঐ অগ্নিকুণ্ডের ভিতর তাকালাম

যেখানে পুড়ে যায় সুন্দরীরা।

সেখানেই পেয়ে গেলাম

ভিনাসের জ্যোতির্ময় প্রতিচ্ছবি।


বেলুন

 

বড়দিন থেকে তারা আমাদের সাথে আছে,

ছলাকলাহীন, স্বচ্ছ

ডিমের মত আকারের প্রাণবান প্রাণী;

তারা আমাদের অর্ধেক জায়গাই নিয়ে নিয়েছে,

ঘুরে বেড়ায় আর রেশমের চাদরে ঘষা খায়।


অদৃশ্য বায়ু প্রবাহ।

তেড়ে গেলে, সরু গলায় চেঁচায় আর লাফিয়ে ওঠে;

তারপর শান্ত, হয়ত মৃদু কেঁপে কেঁপে ওঠে।

হলুদ মাস্তুল, নীল মাছ –

কী রকম সব চাঁদেদের সাথে আমরা বাস করি।


মৃত আসবাবের বদলে –

খড়ের মাদুর, সাদা দেওয়াল

আর এই চলতে থাকা

হাওয়া ভরা ভূ-গোলক, লাল, সবুজ,

সুখদায়ী।


হৃদয়ের মত ইচ্ছেগুলো

অথবা ছাড়া পাওয়া ময়ুরের আশিস

পুরনো মাঠে

পালক দিয়ে ফেটানো তারার খাবার।


ছোট ভাই

তার বেলুন ঘষে ঘষে বিড়ালের চীৎকারের মত

শব্দ বার করছে।

বোধহয় দেখছে তার বিপরীতে

একটি মজাদার গোলাপি পৃথিবী – যাকে খেয়ে নেওয়া যায়

সে কামড়ায়,


তারপর বসে থাকে,

স্থূল জলপাত্রের মত ভাবে পৃথিবীটা জলের মতই স্বচ্ছ।

তার ছোটো মুঠিতে

লাল বেলুনের

একটি ছিন্নাংশ।



কিনারা


এখন মেয়েটি নিখুঁত।

তার শব

সু-সম্পাদনের মিহি হাসি মুখে মেখে আছে।

তার লম্বা ঝুলের পোষাকে ছাপানো লেখাগুলো

পৌরাণিক বিভ্রমের প্রয়োজনে।

তার নগ্ন পা দুটি যেন বলছে

অনেক দূর তো এলাম, এবারে সব শেষ।

প্রতিটি মৃত শিশুই কুণ্ডলী-পাকানো সাদা সাপ,

রাখা আছে একেকটি

দুধ রাখার ছোট পাত্রগুলির সামনে, এখন ফাঁকা।

সে তাদের ভাঁজ করে

শরীরে নিয়েছে গোলাপের পাপড়ির মত

উদ্যান আড়ষ্ট হয়ে আসে,

নিশি ফুলের মধুর গভীর কন্ঠ থেকে ঘ্রাণ ঝরে রক্ত হয়ে।

চাঁদের তো মন খারাপ করার কিছু নেই,

সে তার হাড়-ঘোমটার আড়াল থেকে উঁকি দেয়।

এ সব অভ্যাসে আছে তার।

কালো পোষাক চড়চড় করে ওঠে

আর হ্যাঁচড়াতে হ্যাঁচড়াতে যায়।




Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

কবি ঝিলম ত্রিবেদী

কবি মলয় রায়চৌধুরী

কবি রফিক উল ইসলাম