কবি রুদ্র কিংশুক


রুদ্র কিংশুক

কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও ছোটদের গল্পলেখক, রুদ্র কিংশুক নব্বই দশকের কবি। ইংরেজি ও বাংলা--- দুই ভাষাতেই তিনি লেখেন মৌলিক কবিতা। এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে তাঁর একাধিক কাব্যগ্রন্থ, অনুবাদ সংকলন ও ছোটদের গল্পের বই। সাহিত্য রচনার জন্য তিনি ভারত সরকারের মানবসম্পদ উন্নয়ন দপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত ফেলোশিপ ছাড়া পেয়েছেন একাধিক সম্মাননা।

চৈনিক কবি জুন-আর এর কবিতার অনুবাদে কবি রুদ্র কিংশুক






অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ঝলমলে আলোর নীচে যে গভীর অন্ধকার লুকিয়ে থাকে তারই তথ্যনিষ্ঠ উন্মোচন ঘটেছে এ প্রজন্মের তরুণ কবি জুন আর (Jun Er, 1968)- এর কবিতায়। চীনের অর্থনৈতিক বিপ্লব চিনা মানুষের আধ্যাত্মিক মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। জীবনের এই অবস্থানের বিপ্রতীপ বাচন জুন আর- এর কবিতা।
১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে জুন ইর-এর  জন্ম । গোটা চীন জুড়ে তখন চলছে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উন্মাদনা। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নামে জাতীয় মননের এককেন্দ্রিকতার যে প্রয়াস চীনে চলছিল, তার বিকল্প ধারণার  সন্ধানও চলছিল তরুণ কবিদের লেখায়।  জুন আর সাম্প্রতিক চিনা কবিতার এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর । নারীবাদী হয়েও তাঁর কবিতা নান্দনিক বোধের উদবর্তনে সর্বদাই সচেষ্ট। নিচে কবির তিনটি কবিতা...... 


খুঁড়িয়ে হাঁটা

আমার বাঁ পায়ে: একটা জুতো
আমার ডান পা: খালি
হ্যাঁ, অনেক সময়েই আমাকে এভাবে দেখবে 
এই জন্য নয় যে আমার একটা জুতো কম 
কারণ ওটা খোঁজার ঝামেলা নিতে চাই না আমি
কখনো কখনো আমি এটাকে ঠেলে রাখি বিছানার তলায় অথবা আলমারির ভেতরে 
ছড়ানো পা দিয়ে 
তাই যখন একটা পা উপরে ওঠে অন্যটার চেয়ে বেশি 
আমি নিজেকেই দোষ দিই 
   
আমার বাঁ পায়ের জুতো ঢোকে আমার বসার ঘরে
আমার নগ্ন ডান পা চুপচাপ বেডরুমে 
দু'জনে সহযোগিতা করে আমাকে যেতে পড়ার ঘরে
কিছু পড়ার পরে কিছু লেখার জন্য 
আমি আমার পা রাখি স্টুল অথবা ডেস্কের ওপর
আর যদি ভৌত সত্তাগুলো আমার কাছে আসে 
এবং গোটা ঘর হয়ে ওঠে ঠান্ডা 
সেটা প্রথম যে জানতে পারে সে আমার খালি পা
  

আমি দেখেছিলাম নিজের চোখে 

গভীর রাতে 
আত্মাগুলি দেয়ালে ডানা ঝাপটায় 
স্বাধীন, একাকী


১৫০ বছরের পুরনো তুঁত গাছ

কম্পাউন্ডে ঢোকার সময়
বাড়িগুলোর সামনে একটা বড়ো গাছ 
তার চারদিকে বেড়া দেওয়া
এবং সাইনবোর্ড লাগানো:
পুরনো তুঁত গাছ, ১৫০ বছরের ।
পাতাযুক্ত ডালপালা নেই আর বেশি।
গুঁড়ির গর্তগুলো কংক্রিটে বন্ধ করা ।
১৫০ বছর, তার মানে ১৮৭০,
গাছটার জন্ম।
সে দেখছে কিছু ভাঙাচোরা,
যুদ্ধ আর অশান্তি।
কিন্তু তবু সে বেঁচে চলেছে 
এই দীর্ঘ পথ এই আজ পর্যন্ত 
যখন আমি তার পাশে এসে পড়েছি,
তাই সে পেতে পারল তার এই ছোট্ট জীবনী 
আমার লেখা।

Comments

Popular posts from this blog

কবি ঝিলম ত্রিবেদী

কবি মলয় রায়চৌধুরী

কবি রফিক উল ইসলাম