কবি মজিদ মাহমুদ
মজিদ মাহমুদ
জন্ম:-১৬ এপ্রিল,১৯৬৬,
পাবনায়। পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে। লেখালেখির হাতে খড়ি শিশুবেলা থেকে। কবিতা তাঁর নিজস্ব জগৎ হলেও গবেষণার কাজেও তিনি দক্ষ। নজরুল ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অধীনে কাজ করেছেন। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৪০-র ও বেশি।
উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:- বল উপাখ্যান,আপেল কাহিনী, ধাত্রী ক্লিনিকের জন্ম,মাহফুজামঙ্গল,কাব্য সঞ্চয়ন প্রভৃতি।
প্রবন্ধগ্রন্থ:- ভাষার আধিপত্য ও বিবিধ প্রবন্ধ,কেন কবি কেন কবি নয়, নজরুল তৃতীয় বিশ্বের মুখপাত্র, রবীন্দ্রনাথ ও ভারতবর্ষ প্রভৃতি।
স্বাধীনতা সংগ্রামী ও কবি রামপ্রসাদ বিসমিল-এর কবিতার অনুবাদে কবি মজিদ মাহমুদ
রামপ্রসাদ বিসমিল ( ১১ জুন ১৮৯৭―১৯ ডিসেম্বর ১৯২৭) একজন ব্রিটিশ-বিরোধী ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী। তিনি ছিলেন বিপ্লবী সংগঠন হিন্দুস্তান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। শহীদ ভগৎ সিং তাঁর কবতিা সম্বন্ধে বলেছে- তিনি উর্দু ও হিন্দি ভাষার একজন মহান কবি ও লেখক।
রামপ্রসাদ বিসমিল ভারতের স্বাধীনতার জন্য মাত্র ৩০ বছর বয়সে ফাঁসির মঞ্চে শহীদ হন। তার বিখ্যাত রচনা ( "সারফারোশি কি তামান্না আব হামারে দিল মে হে দেখ না হে জোর কিতনা বাজো হে কাতিল মে হে" ) এই গান গেয়ে কত বিপ্লবী যে ফাঁসির মঞ্চে শহীদ হলেন তা জানা নেই। রামপ্রসাদ বিসমিল "মৈনপুর কান্ড" আর "কাকোরী কান্ডে" নেতৃত্বে দিয়ে ব্রিটিশ শাসকের বুকে প্রচণ্ড আঘাত হেনেছিল। ১১ বছরের বিপ্লবী জীবনে রামপ্রসাদ অনেক বই লিখেছিলেন এবং তা তিনি নিজেই প্রকাশ করেন। তাঁর জীবদ্দশাই তাঁর প্রায় সমস্ত বই প্রকাশিত হয়, কিন্তু ইংরেজ সরকার তার সমস্ত বই নিষিদ্ধ করে দেয়। তাঁর জন্ম উত্তরপ্রদেশের শাহজানপুর জেলায়। তার পিতার নাম ছিল মুরলিধর ও মারা নাম মুলমতি দেবী। মুরলিধর বাড়িতে বসেই রাম প্রসাদ কে হিন্দি অক্ষর শেখাতেন, সে সময় উর্দু ভাষাও খুব প্রচলিত ছিল যার কারণে রামপ্রসাদ কে এক মৌলবী সাহেবের কাছে পাঠানো হত। পণ্ডিত মুরলিধর রামপ্রসাদের পড়াশোনায় বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। শৈশবকালেই আর্যসমাজ এর সম্পর্কে যোগ দেন। শাহজানপুরে আর্যকুমার সভা স্থাপিত করেন। শাহজানপুরে আর্যসমাজ মন্দিরে স্বামী সোমদেবের সংস্পর্শে আসেন এবং তার জীবনে পরিবর্তন আসে। রামপ্রসাদ বিপ্লবী দলে যোগ দিয়ে হিন্দুস্তান রিপাবলিকান এসোসিয়েশনের সদস্য হন। তাদের এই বিপ্লবের কাজে অর্থ সংগ্রহ করার দরকার অস্ত্রসস্ত্র আনার জন্য তিনি একদিন শাহজাহানপুর থেকে লখনৌতে ট্রেন ভ্রমণের সময় খেয়াল করলেন যে প্রত্যেক স্টেশন মাস্টার তার কেবিনে গার্ডের মাধ্যমে টাকার ব্যাগ আনানেয়া করেন। সেই টাকার ব্যাগটি লখনৌ জংশনের সুপারেন্টেন্ডেন্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিসমিল সিদ্ধান্ত নিলেন সরকারি অর্থ লুট করার। এটির মাধ্যমে শুরু হল কাকোরী ট্রেন ডাকাতি।
বিপ্লবীরা তাদের কার্যক্রম চালানোর জন্য এবং অস্ত্রশস্ত্র কেনার উদ্দেশ্যে, বিপ্লবীরা ৮ আগস্ট ১৯২৫ তারিখে শাহজাহানপুরে একটি সভায় বসেন। অনেক কথাবার্তার পর এটি সিদ্ধান্ত হয় যে তারা সরণপুর লখনৌ চলাচলকারী ৮-ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন বহনকারী সরকারি কোষাগার লুট করবেন। ৯ আগস্ট ১৯২৫ তারিখে আসফাকউল্লাহ খান এবং অন্য আটজন বিসমিলের নেতৃত্বে ট্রেন লুট করেন। অন্যরা হলেন বারানসি থেকে পাবনার রাজেন্দ্র লাহিড়ী, বাংলা থেকে শচীন্দ্র নাথ বকসি, উন্নাও থেকে চন্দ্রশেখর আজাদ, কলকাতা থেকে কেশব চক্রবর্তী, রাইবেরেলি থেকে বনওয়ারী লাল, ইটাওয়া থেকে মুকুন্দি লাল, বেনারস থেকে মন্মথ নাথ গুপ্ত এবং শাহজাহানপুর থেকে মুরারি লাল।
১৯২৬ সালে কাকোরি বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং এটির বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকার কাকোরি ষড়যন্ত্র মামলা শুরু করে। এই মামলার বিচারে পণ্ডিত রামপ্রসাদ বিসমিল, রাজেন্দ্র লাহিড়ী, ঠাকুর রৌশন সিং, আসফাকউল্লাহ খানের ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়। ১৯ ডিসেম্বর ১৯২৭ সালে গোরখপুর জেলে ফাঁসি দেওয়া হয়।(তথ্যসূত্র:-উইকিপিডিয়া)। নিচে কবির কবিতা.....
চার চতুষ্পদী
১.
আমরাও তো নিতে পারতাম বাড়িতে বিশ্রাম
হুল্লোড়ে ভাসাতাম বিয়ারের ফেনা আর রাম
আমরাও তো ছিলাম কারো আদরের সন্তান
কারো চেয়ে ছিল না কম তাদের স্নেহের টান!
২.
টুপি খুলে কি হবে যদি মরেই গেলাম
আবহাওয়ার খবরে কি লাভ জলোচ্ছ্বাসের পর
আশাই যদি ফুরালো- চিন্তার কি মানে
বার্তাবহক আসলেও সুখবর দিয়ে কি হবে!
৩.
এখন ত্যাগের জন্য আমার হৃদয় উদ্বেলিত
আমরা কেবল দেখতে পাচ্ছি শত্রুদের গর্দান
হে আমার মাতৃভূমি টের পাচ্ছি রক্তের টান
খাড়ার আঘাতের আগে- ছিলাম শৃঙ্খলিত।
৪.
আমাদের নিয়েই শত্রুরা শলা-পরামর্শ করছে
দেখ- ফাঁসির মঞ্চ এখন হয়েছে প্রস্তুত
হে দেশবাসী! এই ত্যাগ থেকে শিক্ষা নাও
পরাধীন দেশে ত্যাগের মহিমা ছড়িয়ে দাও।


Comments
Post a Comment